এ কি উপন্যাস? না উপন্যাসের আশ্রয়ে এক ‘অনুগামিনী’র বয়ে যাওয়া নদীমাতৃক জীবনচরিত। না কি এক তথ্যচিত্র বা তার চিত্রনাট্য! ১৮৮৬ সালে শ্রীরামকৃষ্ণের মহাপ্রয়াণ ঘটে। তার পর পরই এই আখ্যানমঞ্জরী। এ সেই সময়ের কথা যখন কলকাতা শহর হাঁ করে দেখছে সেই সব চরিত্রকে যাঁরা এক দিন কিংবদন্তি হয়ে যাবেন। এ হল সেই সময়ের কথা যখন হাটখোলার মোড়ে গিরিশ টানছেন নরেনকে থিয়েটারের দিকে আর নরেন টানছেন গিরিশকে দক্ষিণেশ্বরে ঠাকুরের দিকে। এ রচনা সম্পূর্ণ অন্য অনুভূতি বহন করে। পাঠকের যেন মনে হয় বিবেকানন্দ নিবেদিতা গিরিশচন্দ্র এমনকি তিনকড়ি অবধি রক্তমাংসের শরীর নিয়ে চারপাশে ঘোরাফেরা করছেন। কবেকার হারিয়ে যাওয়া পদ্মকরবী ও কোকিলাক্ষ-র গন্ধ যেন বই থেকে বেরিয়ে এসে ছড়িয়ে যায়। এখানে আর একটি লক্ষণীয় বিষয় ইংরেজি শব্দ-বাক্যের ব্যবহার যা এটিকে অভিনবত্ব দিয়েছে। লেখক সেই তত্ত্বেই বিশ্বাস করেন যে একাকী কোনও আনন্দ নেই। তাই তিনি সব পাঠককে নিয়ে বসেন এ উপন্যাস শোনাতে। হ্যাঁ, এই উপন্যাস যেন পড়ার চেয়েও অনেক বেশি খুব নীরবে কানে শুনছি বলে মনে হয়। এক বিপুল শ্রমসাধ্য কাজকে অত্যন্ত সহজ ভাষায় অভিজিৎ উপহার দিয়েছেন।

সৌজন্যেঃ আনন্দবাজার পত্রিকা

সেপ্টেম্বর, ২০১৮