হারিয়ে যায় তো কত কিছুই। সবের কথা কি মনে থাকেকিন্তু মায়েরশাশুড়ির বা ঠাকুরমার হাতের রান্নার স্বাদ কিন্তু সহজে মুছতে চায় না। জিভের ডগায় লেগে থাকা সেই স্বাদ জেট গতির জীবনেও মনে নাড়াচাড়া দিয়ে যায়। স্মৃতির সঙ্গে রসনার বোধহয় চিরস্থায়ী সম্পর্ক রয়েছে। থাকাটাই উচিতকারণ রান্না তো শুধু ক্ষুধা মেটানোর জন্য নয়তার মধ্যে বহতা সংস্কৃতির ছোঁয়া থেকে যায়থাকে একটি জাতির পরিচয়ও। কালের গর্ভে প্রায় হারিয়ে যাওয়া এমন সব খাবারের গল্প দুমলাটের মধ্যে ধরেছে বইটি। এখানে খাবার নিয়ে ২৪টি প্রবন্ধ রয়েছে। প্রবন্ধ বললে ভুল হবেরয়েছে নানা স্বাদের রম্য লেখা। এগারোটি অধুনা বিরল পাকপ্রণালীর পাশাপাশি শ্রীহট্টীয়(সিলেটেরপাকঘরের সাতটি পদের হদিশ দেয় এই বইটি। সম্পাদকদ্বয় জানিয়েছেনবইটিতে মূলত খাদ্যসংস্কৃতির বিষয়টিকে বোঝার চেষ্টা হয়েছে। চেষ্টা হয়েছে খাবারের সংস্কৃতির সঙ্গে ধর্মকৃষি ব্যবস্থাভূগোলরসায়নসমাজনীতিঅর্থনীতি ও রাজনীতি কী ভাবে জড়িয়ে আছে তা বোঝার। কিন্তু কোথাও তা গুরুগম্ভীর আলোচনায় পর্যবসিত হয়নি। বইটির গদ্যখাদ্যগুলির মতোই সুস্বাদুপড়তে পড়তে হোঁচট খেতে হয় না। সমাজরাজনীতিঅর্থনীতির জগতে ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে আসা বাঙালির রান্নার কী বিপুল বৈচিত্র ছিল তার এক ঝলক মেলে এই লেখাগুলির মধ্যে দিয়ে। সেই ঝলকটি রাখার জন্য সম্পাদকদ্বয় চেষ্টার ত্রুটি রাখেননি। এমনকী সোশ্যাল মিডিয়ার সাহায্য নিতেও দ্বিধা করেননি। শুধু খাদ্যরসিকরাই ননবইটি আমজনতার জন্যই লেখা। তবে পাকপ্রণালীর সঙ্গে ছবি থাকলে মন্দ হত না। ঘ্রাণে যদি অর্ধভোজন হয়দর্শনে কী হবে তা বিদ্বজ্জনরাই ঠিক করবেন।

নুনেতে ভাতেতে ২/ হারিেয় যাওয়া খাবারের গল্প

সম্পাদক: রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য সান্যাল ও অনার্য তাপস

২২৫.০০ 

দ্য ক্যাফে টেবল   

সৌজন্যেঃ আনন্দবাজার পত্রিকা